হাম হলে রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা করনীয়

হাম জ্বর বা মিজেলস (Measles) একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। বিশেষ করে শিশু ও স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হাম থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।


হাম হলে রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা



  • নিয়মিত টিকাদান
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
  • পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন-এ
  • লক্ষণ দেখা দিলে করণীয়

১. নিয়মিত টিকাদান (সবচেয়ে কার্যকর উপায়)
হাম থেকে বাঁচার একমাত্র এবং শ্রেষ্ঠ উপায় হলো *MR (Measles-Rubella) টিকা* নেওয়া। সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। আপনার শিশু যদি কোনো কারণে টিকা মিস করে থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা
হাম বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে এটি দ্রুত ছড়ায়। তাই ঘরে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে আলাদা রুমে রাখা এবং সুস্থ ব্যক্তিদের (বিশেষ করে শিশুদের) সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা জরুরি।

৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে, বিছানা বা বাসনপত্র অন্যদের ব্যবহার করতে দেবেন না। ঘরবাড়ি নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখুন।


৪. পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন-এ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: গাজর, মিষ্টি কুমড়া, রঙিন শাকসবজি) বেশি করে খান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হামের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।

৫. লক্ষণ দেখা দিলে করণীয়
শরীরে তীব্র জ্বর, লালচে দানা বা র‍্যাশ, চোখ লাল হওয়া বা সর্দি দেখা দিলে প্যানিক না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও বিশ্রাম হামের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।


সতর্কবার্তা: হাম কেবল একটি সাধারণ জ্বর নয়, অবহেলা করলে এটি নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নিন এবং সুস্থ থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের বঙ্গ’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url